নীড় » ধ্রুপদী চলচ্চিত্র ও নির্মাতা

দ্য সেভেন্থ সিল-এ ঈশ্বর ও জীবনের মেলবন্ধন

মো. হারুন-অর-রশিদ| সংখ্যা ১২, জানুয়ারি ২০১৭



শুধু বিশ্বাসই কি মুক্তির পথ
যেখানে নিজেকেই বিশ্বাস করি না
প্রতিটি সত্তায় মিশে থাকে দুইটি বৈশিষ্ট্য—ধ্বংস ও সৃষ্টি। বিস্তারিত...

ওজু’র দেখার নতুন চোখ

বিউটি মন্ডল| সংখ্যা ১১, জুলাই ২০১৬



তাতামি, এলিপসিস ও নব্য-বাস্তববাদ
সবকিছুরই নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে, থাকে ভাষা। স্বাভাবিকভাবেই চলচ্চিত্রও এ থেকে বাদ যায় না। আর চলচ্চিত্রের এ ভ বিস্তারিত...

বোহেমিয়ান অরসন ও পোক্ত সিটিজেন কেইন

হিরু মোহাম্মদ| সংখ্যা ১০, জানুয়ারি ২০১৬



মানুষ প্রতিনিয়তই কতো না শৈল্পিক কাজ করে চলে। কেউ সেটা উপলব্ধি করে, কেউ করে না। একজন কুমার মাটি আর পানি দিয়ে কতো কারুকার্যময় কাজই না করেন। হয়তো তিনি সেটা খেয়ালও করেন না। বিস্তারিত...

ঝিগা ভের্তভ : ক্যামেরার চোখে যিনি বাস্তবতা দেখলেন

শিলু হোসেন ও খালিদ হাসান| সংখ্যা ৯, জুলাই ২০১৫



 
I'm an eye. A mechanical eye.
I, the machine, shwo you a world the way only I can see it„
—Dyi বিস্তারিত...

সবাক দিয়ে অবাক করলেন অ্যালান

রাশেদ রিন্টু| সংখ্যা ৮, জানুয়ারি ২০১৫



পৃথিবীর কোনো কিছুই গতির বাইরে নয়। সে হোক জীব কিংবা জড়। মাঝে মাঝে নিজেদের আপাত দৃষ্টিভঙ্গির কারণে কোনো কিছু স্থির মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সবই গতিশীল। মানুষ শুরু থেকেই প্রকৃ বিস্তারিত...

মনের সঙ্গে বাস্তবের সাযুজ্য : রূপায়ণে ভিনের অভিব্যক্তি

প্রদীপ দাস| সংখ্যা ৭, জুলাই ২০১৪



নবতরঙ্গের ছন্দ নিয়ে এলেন জ্যঁ লুক গদার

ইমরান হোসেন মিলন| সংখ্যা ৬, জানুয়ারি ২০১৪

পুরো নাম : জ্যঁ লুক গদার জন্ম : ৩ ডিসেম্বর ১৯৩০, প্যারিস, ফ্রান্স চলচ্চিত্রে অবদান : নবতরঙ্গধারার পথিকৃৎ           ১৯৪৪ সাল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, চলছে বিশ্বজুড়ে অক্ষশক্তি ও মিত্রশক্তির ধ্বংসলীলা। জার্মানরা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইতালির অবকা ামো। যুদ্ধ শেষেও িক চেনা যায় না আর ইতালিকে। একটু দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেনো একটা ময়লার ভাগাড়। তবে ইতালির এই অবস্থা শুধু অবকা ামোতেই সীমাবদ্ধ ছিলো না, ছড়িয়ে ছিলো তাদের শিল্প-সাহিত্যেও। যা অন্যান্যদের সঙ্গে চিন্তায় ফেলে দেয় দেশটির চলচ্চিত্রনির্মাতাদেরও। কারণও ছিলো অনেক; স্টুডিও-ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কাঁচা ফিল্মের সঙ্কট, তার ওপর সেগুলোর পরিস্ফুটনসহ পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ তো আছেই। প্রয়োজন অনেক টাকার। কিন্তু সেই সামর্থ্য ছিলো না নির্মাতাদের। কেননা ভঙ্গুর অর্থনীতিতে নিজেদের বেঁচে থাকাটাই তখন দায়। তার ওপর চলচ্চিত্র! ভাবাটা খুব সহজ ছিলো না। কিন্তু বেগতিক এই অবস্থার মধ্যেও চলচ্চিত্র-নির্মাণের দিকে পা বাড়ান বেশ ক’জন নির্মাতা। শুরু করেন বাস্তবের অবস্থাটা চলচ্চিত্রে তুলে ধরার আন্দোলন। নাম দেন নব্য-বাস্তববাদ বা নিউরিয়ালিজম। চারদিকে সাড়া ফেলে; কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই নিজ দেশে স্তিমিত হয়ে আসে এই আন্দোলন। তবে এর রেশ ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ইতালির নব্য-বাস্তববাদের ম্রিয়মাণ সেই মেঘ যেনো ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিতে ভিজিয়ে দেয় পার্শ্ববর্তী দেশ ফ্রান্সকে। চলচ্চিত্রের জন্মভূমি ফ্রান্সের উর্বর মাটি বৃষ্টিতে যেনো শক্তি ফিরে পায়। শুরু হয় চলচ্চিত্র-নির্মাণের নতুন অধ্যায়। সময়টা ১৯৫০-এর দশক। ফ্রান্সের বিভিন্ন ফিল্ম স্কুল থেকে চলচ্চিত্রে পড়াশোনা শেষ করে বেরিয়ে আসতে থাকে অনেক তরুণ। উদ্দেশ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের চলচ্চিত্রের ভগ্নদশা দূর করা। তারা কাজও শুরু করেন সেভাবেই। ক্যামেরা হাতে নির্মাণ শুরু করেন চলচ্চিত্র। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, ফ্রান্সের দর্শকরা কেনো জানি তাদের সেই চলচ্চিত্রগুলোকে ভালোভাবে গ্রহণ করছিলো না। ফলে প্রযোজকরাও হাত গুটিয়ে নিতে থাকেন। তবে তরুণদের নির্মিত চলচ্চিত্রগুলো যে শিল্পমানসম্পন্ন ছিলো না তাও নয়; এমনকি বাণিজ্যিক উপাদান থাকা সত্ত্বেও চলচ্চিত্রগুলো সফলতার মুখ দেখতে পাচ্ছিলো না। িক এর বিপরীতে দাঁড়িয়ে আরেকটি কাজ হচ্ছিলো ফ্রান্সে। ১৯৪৬ সালের দিকে জ্যঁ জর্জ আরিয়েল-এর সম্পাদনায় ‘ফিল্ম রিভিউ’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ হতে শুরু করে। এর বেশিরভাগ লেখক ছিলেন সেই সব তরুণ চলচ্চিত্রনির্মাতা, যারা তখন ফ্রান্সে চলচ্চিত্র-নির্মাণে হাত দিয়েছিলেন। এছাড়া সেখানে কয়েকজন চলচ্চিত্র তাত্ত্বিকও ছিলেন। অঁদ্রে বাযাঁ তাদের একজন। কিন্তু ‘ফিল্ম রিভিউ’ ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ১৯টি সংখ্যা প্রকাশের পর বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু যে শিখা জ্বালিয়ে দিয়েছিলো ‘ফিল্ম রিভিউ’ তা নেভানো সহজ ছিলো না। হাল ধরলেন বাযাঁ। ১৯৫১ সালে জ্যঁ লুক গদার, ক্লদ শ্যাব্রল, ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, অ্যাঁলা রেঁনে, লুই মালা প্রমুখ তরুণদের নিয়ে যাত্রা শুরু করলো ‘কাইয়্যে দ্যু সিনেমা’ পত্রিকা। এর আধেয়ও ছিলো চলচ্চিত্র সমালোচনা, পরিচালকদের কথা ও চলচ্চিত্র সংক্রান্ত লেখাজোখা। অল্প সময়ে ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’ আলোড়ন সৃষ্টি করে বিশ্ব-চলচ্চিত্র মহলে। কিন্তু কাইয়্যে দ্যু’র লেখক কাম নির্মাতারা সন্তুষ্ট থাকতে পারছিলেন না। কারণ ফ্রান্সের চলচ্চিত্র-আকাশের কালো মেঘ যেনো কাটছিলো না। তাই ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’র সম্পাদকীয় দপ্তরে বসে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন নতুন এক চলচ্চিত্র ধারার। আগেও নির্মাতা ছিলেন, কিন্তু এবার ইতালির নব্য-বাস্তববাদ ধারার অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা মা ে নামলেন ক্যামেরা হাতে। আর এর মধ্য দিয়েই শুরু হলো ফ্রান্সের নবতরঙ্গ চলচ্চিত্র ধারা বা ফ্রেঞ্চ নিউওয়েভ বা নুভেলভাগ। এর আগে কোনো পত্রিকার সম্পাদকীয় দপ্তর থেকে এ রকম চলচ্চিত্র আন্দোলন সৃষ্টি হয়নি। নতুন ধারার এই নির্মাতারা বললেন, ‘Camera-stylo’ অর্থাৎ একজন লেখকের কাছে যেমন তাঁর কলম, একজন চলচ্চিত্রকারের কাছে তেমনি তাঁর ক্যামেরা এবং ক্যামেরাকেও কলমের মতোই সহজ-স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে হবে।’ ১ ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’র লেখকরা করলেনও তাই। হাতে ধরলেন ক্যামেরা। নির্মাণ করলেন চলচ্চিত্র। শুধু আধেয়গত দিক নয়; তারা যে চলচ্চিত্র নির্মাণ করলেন তার শিল্প ও শৈলীতেও থাকলো ভিন্নতা। খরচও ছিলো অল্প। তবে ফরাসি নবতরঙ্গধারা খুব বেশি দিন যে স্থায়ী ছিলো এমন নয়। সময় ও চলচ্চিত্র নির্মাণের ভিত্তিতে এই ধারাকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়ে থাকে। ১৯৫৮ থেকে শুরু হয় নবতরঙ্গের প্রথম পর্যায়, শেষ হয় ১৯৬২ সালে। এ সময় চলচ্চিত্রে স্থান পায় জনগণের বুর্জোয়াবিরোধী মনোভাব, অপরাধ, যৌনতা, মানুষের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন, ব্যক্তির চরিত্র সমাজে কীভাবে নির্মাণ হচ্ছে এই বিষয়গুলো। এই পর্যায়ে রাজনৈতিক মতাদর্শও কিছুটা হলে স্থান করে নেয় চলচ্চিত্রে। প্রথম পর্যায়ের নির্মাতা হিসেবে নাম করেন ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো, ক্লদ শ্যাব্রল ও জ্যঁ লুক গদার। ত্রুফোর ফোর হান্ড্রেড ব্লোজ (১৯৫৯) তুলে ধরে তার কৈশোর ও তৎপরবর্তী অভিজ্ঞতা। এরপর গদার নির্মাণ করেন তার প্রথম চলচ্চিত্র ব্রেথলেস (১৯৬০)। সেখানে দেখানো হয় মানুষের অপরাধ প্রবণতা, পরিবার প্রথার বাইরে সমাজে একে অন্যের সঙ্গে সম্পর্ক। এরপর অবশ্য গদার যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মাণ করেন (১৯৬২ সালের আগে) সেগুলোতে বিষয়বস্তু হিসেবে ছিলো বুর্জোয়া বিরোধী মনোভাব এবং তাদের ছড়ানো মিথের বিরোধিতা। নবতরঙ্গের দ্বিতীয় পর্যায় ধরা হয় ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত সময়কে। এই পর্যায়ে এসে চলচ্চিত্রের মূল বিষয় হয়ে ও ে রাজনীতি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ ায় মরিয়া হয়ে ও ে আমেরিকা। যার নজির দেখা যায় এ সময়ের চলচ্চিত্রেও। ভিয়েতনাম প্রসঙ্গ এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। এ সময় গদার মাসকুলিন ফেমিনিন (১৯৬৬), মেড ইন ইউএসএ (১৯৬৬) চলচ্চিত্রগুলোয় মার্কিনিদের সাম্রাজ্যবাদী আচরণকে তুলে ধরেন। এছাড়াও এ সময় নিউক্লিয়ার যুদ্ধ প্রসঙ্গ, রাজনীতি, ভোগ-বিলাসিতাও চলচ্চিত্রের বিষয় হয়ে ও ে। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ হয়ে ও ে পতিতাবৃত্তি। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্রের যেসব প্রতিষ্ ানকে ব্যবহার করেছে স্বয়ং রাষ্ট্র, তাদের কর্মকাণ্ড ও পরিচালনা নিয়েও নানা প্রশ্ন তোলা শুরু হয় চলচ্চিত্রে। বলা যেতে পারে, ফরাসি সমাজের বাস্তব প্রতিফলন ছিলো এই সময়ের চলচ্চিত্র। এ কারণে অনেকে এই নবতরঙ্গধারাকে তখন নব্য-বাস্তববাদ বলেই মনে করতেন। যেহেতু ইতালির নব্য-বাস্তববাদের ধারণায়ন থেকে নবতরঙ্গ ধারার জন্ম, তাই নব্য-বাস্তববাদের প্রভাব সেখানে স্পষ্ট। কিন্তু কোনোভাবেই তা নব্য-বাস্তববাদ না। যদিও ১৯৭০ সালের পর থেকে এই চলচ্চিত্রগুলোই আবার রাজনৈতিক চলচ্চিত্র নাম ধারণ করে। ফরাসি নবতরঙ্গ বা নুভেলভাগ আন্দোলনকে কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞায় আবদ্ধ করা যায় না। কারণ এই ধারায় আসলে অন্য আন্দোলনগুলোর মতো নির্দিষ্ট কোনো শৈলীর প্রকাশ চোখে পড়ে না। তবে এটা িক, নব্য-বাস্তববাদের কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করে ফরাসি নবতরঙ্গ। নব্য-বাস্তববাদের মতো এখানেও অপেশাদার অভিনেতা-অভিনেত্রী, কম খরচে চলচ্চিত্র নির্মাণ, ক্যামেরার ব্যবহারে ভিন্নতা আনা হয়। এই ধারায় অতিরিক্ত হিসেবে যোগ হয়েছে অতি সংবেদনশীল নেগেটিভের ব্যবহার, হাতে ধরা ক্যামেরার ব্যবহার, কাঁধে ঝোলানো টেপ রেকর্ডার আর শটের ব্যবহারে ভিন্নতা তো ছিলোই। এ ধারায় ডিটেইলের ব্যবহার বেশি লক্ষণীয়। এছাড়া এখানে বেশি বেশি ব্যবহার করা হয়েছে জাম্প কাট্, আনম্যাচড্ শট্। তবে অনেক ক্ষেত্রেই নবতরঙ্গধারার চলচ্চিত্রকাররা চেষ্টা করেছেন একটা দৃশ্য মাত্রাগত বি-নির্মাণের। কিন্তু যতো কিছুই হোক না কেনো নবতরঙ্গধারার কেন্দ্রে থেকেছে সমাজ। ফরাসি নবতরঙ্গ আন্দোলনের প্রভাব একই সময়ে গিয়ে পড়েছিলো ব্রিটেনের চলচ্চিত্রেও। সেখানে তা পরিচিত হয় ব্রিটিশ নবতরঙ্গ নামে। পরে ১৯৬২ সালের দিকে জার্মানিতে জার্মান নবতরঙ্গের শুরু হয়ে শেষ হয় ১৯৮২-তে এসে। ও আর একটি কথা, ফরাসি নবতরঙ্গধারার নির্মাতাদের মধ্যে হিচকক, ফোর্ড, ক্রিস মার্কার, রেঁনে, ত্রুফো, রোহ্মার, গদার, লুই মালা’রা কিন্তু অস্তিত্ববাদী দর্শন দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন। তাই তাদের চলচ্চিত্রে এর প্রভাবও পড়ে অনেকখানি। এবার আমরা জ্যঁ লুক গদার সম্পর্কে একটু জেনে নিই।   প্রসঙ্গ জ্যঁ লুক গদার ৩ ডিসেম্বর ১৯৩০ সালে ফ্রান্সের প্যারিসে মা ওডিলি’র কোল আলো করে জন্ম নেয় জ্যঁ লুক গদার। বাবা পল গদার ছিলেন পেশায় চিকিৎসক। জ্যঁ লুক গদারের বাবা-মা দুজনেই ছিলেন বংশোদ্ভূত সম্পদশালী, আর ধর্মে প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টান। চার বছর বয়সে জ্যঁ লুক গদারের বাবা পল গদার পরিবার নিয়ে পাড়ি জমান সুইজারল্যান্ডে। মূলত সেখানেই স্থায়ী আবাস করতে চেয়েছিলেন গদার পরিবার। চিকিৎসক হিসেবে পল গদার যোগও দেন স্থানীয় একটি ক্লিনিকে। আর লুক গদারকে ভর্তি করানো হয় নিয়ন নামে স্থানীয় একটি মাধ্যমিক স্কুলে। এককথায় সুইজারল্যান্ডে সুখেই দিনাতিপাত করছিলেন পলের পরিবার। িক এই সময় রণহুঙ্কার দিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে ১৯৪৬ সালে পরিবারের ইচ্ছায় প্রকৌশল পড়তে লুক গদারকে ছাড়তে হয় সুইজারল্যান্ড। তিনি আবার ফিরে আসেন জন্মভূমি ফ্রান্সে। লুক গদারের বয়স তখন ১৪। ফ্রান্সের লেক জেনেভায় থাকার ব্যবস্থা হয় দাদার বাড়িতে। গদারকে প্যারিসের লিসি বুফোন স্কুলে ভর্তি করানো হয়। দাদার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ছিলো অনেকখানি। আগেই বলেছি—গদারদের পরিবার ছিলো সম্ভ্রান্ত, তাই তাদের যোগাযোগও ছিলো প্যারিসের অনেক সংস্কৃতিমনা পরিবারের সঙ্গে। যার বদৌলতে লুক গদারের জায়গা হয় স্কুলের পাশে জ্যঁ স্ক্যালেম্বারগার নামে এক লেখকের বাসায়। সেই লেখকের বাসায় থেকেই পড়াশোনা শুরু করেন গদার। পড়াশোনার পাশাপাশি সেই সময় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। মূলত তার চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহের সৃষ্টি তখন থেকেই। ১৯৪৮ সালে ব্যাকালোরিয়েট (ফ্রান্সের মাধ্যমিক পরীক্ষা) পরীক্ষায় অংশ নেন গদার। কিন্তু পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন। এ ঘটনায় তার বাবা-মা অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ন হন এবং গদার নিজেও হতাশ হয়ে পড়েন। এবার তাকে ফিরে যেতে হয় সুইজারল্যান্ডে বাবা-মার কাছে। ভর্তি হন সেখানকার থনোনের একটি বোডিং স্কুল লাউসেন-এ। হতাশা কাটিয়ে আবার পড়াশোনা শুরু করেন। কিন্তু ফ্রান্সে থাকা অবস্থায় চলচ্চিত্র নিয়ে যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিলো সুইজারল্যান্ডে এসে তা আরো জোরালো হয় গদারের। এখানে তার বেশিরভাগ সময় কাটতে থাকে জেনেভায় ঘুরে। সেখানেই পরিচয় হয় চলচ্চিত্র নিয়ে কাজ করেন এমন কিছু লোকের সঙ্গে। যাদের মধ্যে রোলান্ড টলমাটফ এবং কট্টর ডানপন্থি দার্শনিক জ্যঁ পারভুলেস্ক অন্যতম। এরই মধ্যে পুনরায় ব্যাকালোরিয়েট পরীক্ষায় অংশ নেন লুক গদার। এবার সফলতার সঙ্গে পাশ করেন। ফলে ১৯৪৯-এ তিনি আবার প্যারিসে ফিরে আসেন। প্রকৌশলী হওয়ার আশায় গুড়ে-বালি দিয়ে গদার ভর্তি হন ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর চলচ্চিত্র নিয়ে পাগলামি যেনো বেড়ে যায় গদারের। ফলে ক্লাস বাদ দিয়ে দিনভর তাকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় ‘সিনে ক্লাব’ নামে চলচ্চিত্র সমালোচক গ্রুপ নিয়ে। এই তরুণদেরই কেউ কেউ পরবর্তী সময়ে ফরাসি নবতরঙ্গ আন্দোলনে তার সঙ্গী হন। এদিকে ১৯৫০ সালে সুইজারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পান গদার। বাবার সঙ্গে বের হন দেশ ভ্রমণে। উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা আর দক্ষিণ ভারতিয় দ্বীপপুঞ্জ ঘুরে ফিরেন সুইজারল্যান্ডে। ১৯৫১ সালে ফ্রান্সে ফিরে আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে আগ্রহের তীব্রতা আরো বেড়ে যায় গদারের। বন্ধু ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো বিষয়টি খেয়াল করেন। তখন দুজনে একসঙ্গে লেখালেখি শুরু করেন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। ‘ফিল্ম রিভিউ’ হয়ে যা চলে অঁদ্রে বাযাঁর ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’ পর্যন্ত। তিনি মূলত ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’তে বিভিন্ন চলচ্চিত্রের সমালোচনা করতেন। অল্প দিনে গদারের নামডাক হয়ে যায় চলচ্চিত্রবোদ্ধা মহলে। এ সময় তার অনেক বন্ধুই প্যারিসের Institute for Adsvanced Cinematographic Studies থেকে চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করে বের হতে থাকেন। তারাও চলচ্চিত্র নির্মাণের পাশাপাশি ‘কাইয়্যে দু সিনেমা’ পত্রিকার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এরাই মূলত পরে চলচ্চিত্রের সমালোচনা ছেড়ে চলচ্চিত্র-নির্মাণ শুরু করেছিলেন। গদারও এর বাইরে থাকেননি। ১৯৫৫ সালে গদার নির্মাণ করেন তার প্রথম প্রামাণ্যচিত্র অ্যানি ফেমি কনকুয়েট । ১০ মিনিট দৈর্ঘ্যের এই প্রামাণ্যচিত্রের পর তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। নির্মাণ করেন ব্রেথলেস (১৯৬০)। আর প্রথম চলচ্চিত্রেই পান দারুণ সাড়া, আলোড়িত করে ফ্রান্সের জনগণকে। আর এভাবেই ব্রেথলেস হয়ে ও ে ফরাসি নবতরঙ্গধারার অন্যতম চলচ্চিত্র। ব্রেথলেস ১৯৬০ সালেই কান চলচ্চিত্র উৎসবে ‘প্রিক্স জেন ভিগো’ পুরস্কার পায়। শুরু হয় গদারের নতুন জীবন। ১৯৬১ সালে গদার জেনেভাতে আলজেরিয়ার যুদ্ধ নিয়ে লি ম্যাট্রিট সোলডেট নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। একই বছর গদার অ্যা উইমেন ইজ অ্যা উইমেন নামে তার প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করতে গিয়ে এর অভিনেত্রী কারিনার সঙ্গে প্রথমে প্রণয় ও তারপর সেই বছরই বিয়ে। ১৯৬২ সালে গদার নির্মাণ করেন Vivre sa vie , যেখানে এক যুবতির গণিকা হয়ে ও ার চরিত্রে অভিনয় করেন কারিনা। ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সে বছরই চলচ্চিত্রটি সমালোচক পুরস্কার ও জুরিদের বিশেষ পুরস্কার পায়। ১৯৬৭ সালে কারিনার সঙ্গে গদারের বিচ্ছেদ হয়। সেবছরই তিনি বিয়ে করেন আনা ওয়াজিমেস্কিকে। বনিবনা না হওয়ায় তিন বছরের মাথায় বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটান গদার। তারপর অবশ্য তিনি আর বিয়ে করেননি; থেকেছেন ম্যারিয়া মেলভিলেন নামে বান্ধবীর সঙ্গে। লুক গদার ৬০ দশকের মাঝামাঝি থেকে পরবর্তী দুই দশকে বেশিরভাগ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন রাজনৈতিক চিন্তাধারা ও দার্শনিক তত্ত্বনির্ভর। যেহেতু তিনি অস্তিত্ববাদী ও মার্কসের দার্শনিক তত্ত্বের জ্ঞানপিপাসু পা ক ছিলেন, তাই তার চলচ্চিত্রেও এর উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এছাড়াও তিনি মাওবাদ দ্বারা প্রভাবিত ছিলেন—এমনটাও শোনা যায় অনেকের কাছে। ৯০ দশকে তার নির্মিত চলচ্চিত্রে মাওবাদের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। ২০১৩-তে ৮৩ বছর বয়সেও থেমে নেই জ্যঁ লুক গদারের চলচ্চিত্র নির্মাণ। একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকেও নির্মাণ করেছেন ওহ In Praise of love (২০০১), Notre musique (২০০৪)। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ফিল্ম সোশ্যালিজম (২০১০)। চলচ্চিত্রটি সে বছরই কান চলচ্চিত্র উৎসবে Un Certain Regard ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়। এরপর ২০১৩ সালে দ্য থ্রি ডিজাস্টার নামে চলচ্চিত্রে পিটার গ্রিনাওয়ে ও ইগার পেরে’র সঙ্গে কাজ করেন গদার। এই চলচ্চিত্রটি ২০১৩ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবে প্রিমিয়ার করা হয়। এখানেই শেষ নয়, গদার আবারো চলচ্চিত্র নির্মাণের দিকে এগোচ্ছেন। বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন ড্যানিয়েল ম্যান্ডেলসন-এর ‘The Lost : A Search for Six of Six Million’ গল্পটি। সেই গল্প অবলম্বনে গদার Farewell to Language নামে চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে যাচ্ছেন। গদারের অন্যান্য চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো : দ্য নিউ ওয়ার্ল্ড (১৯৬২), উইক ইন্ড (১৯৬৭), অ্যা ফিল্ম লাইক দ্য আদার (১৯৬৮), ভ্লাদিমির অ্যাট রোসা (১৯৭০), নাম্বার টু (১৯৭৫), পিনোম কারম্যান (১৯৮৪), কিং লেয়ার (১৯৮৭), ফর ইভার মজারর্ট (১৯৯৬), আওয়ার মিউজিক (২০০৪)। শুধু একজন নির্মাতাই নন গদার, অভিনেতা হিসেবে তিনি যেমন অন্যের চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তেমনি নিজের চলচ্চিত্রেও। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে ভ্লাদিমির অ্যাট রোসা, কিং লেয়ার, কিপ ইউর রাইট আপ (১৯৮৭), আওয়ার মিউজিক অন্যতম। এর বাইরে অবশ্য চিত্রগ্রাহক, সম্পাদক ও প্রযোজক হিসেবেও  অত্যন্ত দক্ষ গদার।   চলচ্চিত্র : ব্রেথলেস ব্রেথলেস -এর কাহিনী গড়ে উ েছে একটি সাদামাটা ঘটনা দিয়ে। কিন্তু এর উপস্থাপনশৈলী ছিলো অসাধারণ। পর্যটনকেন্দ্র মার্সেইলের ব্যস্ত রাস্তার পাশে নারী সঙ্গীসহ সুযোগের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে মাইকেল। পর্যটন কেন্দ্রে প্রবেশ করে একটি গাড়ি। বোঝা যায়, তারা বেড়াতে এসেছে। গাড়িটি রেখে মালিক চলে যাওয়া মাত্রই মাইকেল সাবলীল ভঙ্গিতে গাড়িটি নিয়ে চম্পট দেয়। এমনাবস্থায় সঙ্গী মেয়েটি তার সঙ্গে যেতে চাইলেও তাকে নেয় না মাইকেল। ব্রেথলেস -এর কেন্দ্রীয় চরিত্র মাইকেল। একজন পেশাদার অপরাধী। গাড়ি চুরি তার নানাধরনের অপরাধের মধ্যে একটি মাত্র। আর মেয়েটি তার সহযোগী। গাড়ি নিয়ে হাইওয়েতে মনের আনন্দে দ্রুতগতিতে চালাতে থাকে মাইকেল। উঁচু-নিচু রাস্তায় দ্রুতগতির গাড়ি দেখে সন্দেহ হয় ট্রাফিক পুলিশের। দুজন পুলিশ মোটরসাইকেল নিয়ে মাইকেলের পিছু নেয়। মাইকেল পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে হাইওয়ের পাশের গ্রামের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ে। একজন পুলিশ না বুঝে রাস্তা ধরে চলে গেলেও আরেকজন পিছু নেয় মাইকেলের। মাইকেল একপর্যায়ে গাড়ি থামিয়ে পুলিশকে গুলি করে। এরপর সে গাড়ি ফেলে পালিয়ে যায়। শহরে ফিরে প্রথমে মাইকেল আশ্রয় নেয় তার সেই সহযোগী সঙ্গীটির বাসায়। পরে তার কাছ থেকেও টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। এদিকে তরুণ সাংবাদিক প্যাট্রিসিয়ার সঙ্গে মাইকেলের পরিচয় হয় রাস্তায় পত্রিকা কেনা নিয়ে; প্যাট্রিসিয়া নিজেই রাস্তায় রাস্তায় ‘নিউইয়র্ক হেরাল্ড ট্রিবিউন’ পত্রিকা বিক্রি করে। সেই থেকেই একটা সম্পর্ক গড়ে ও ে দুজনার, তারপর তা রূপ নেয় ভালোবাসায়। এই সুযোগে এবার মাইকেল আশ্রয় নেয় সেই মার্কিন সাংবাদিক প্যাট্রিসিয়ার ফ্ল্যাটে। কয়েকদিনের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায় মাইকেলের পুলিশ হত্যার বিষয়টি। ফলে সে স্বাভাবিকভাবে আর বের হতে পারে না ঘরের বাইরে। একপর্যায়ে প্যাট্রিসিয়াও জানতে পারে বিষয়টি। কিন্তু ততোদিনে মাইকেলের সন্তানের মা হতে চলেছে প্যাট্রিসিয়া। তাই চাইলেও প্যাট্রিসিয়া আর ছাড়তে পারে না মাইকেলকে। তার পরও সে মাইকেলকে ধরিয়ে দিতে পুলিশে খবর দেয়। তবে একটু পরেই উপলব্ধি হয় সে ভুল করেছে। আর তখনই সে মাইকেলকে পালাতে বলে। কিন্তু মাইকেল এবার আর পালাতে চায় না। সে বরং পুলিশের কাছে ধরা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে চায়। আবার পরক্ষণেই কী যেনো ভেবে পালাতে চায়। তবে এবার আর সময় পান না মাইকেল। পুলিশ ততোক্ষণে এসে পড়লে মাইকেল দৌড় দেয়, তখন পিছন থেকে গুলি করে পুলিশ। রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে মাইকেল। অসহায় প্যাট্রিসিয়া একা চলতে শুরু করে এক অজানা গন্তব্যে।   লেখক : ইমরান হোসেন মিলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী। milonmcru@gmail.com   পা সহায়িকা আউয়াল, সাজেদুল (২০১১); চলচ্চিত্রকলার রূপ-রূপান্তর; দিব্য প্রকাশ, ঢাকা। দাশগুপ্ত, ধীমান (২০০৬); চলচ্চিত্রের অভিধান; বাণীশিল্প, কলকাতা। http://en.wikipedia.org/wiki/Jean-Luc_Godard

ভিত্তোরিও, ‘বাস্তবতা’ দিয়ে পরিবর্তন শুরুর নায়ক

সাবিহা তমা| সংখ্যা ৫, জুলাই ২০১৩


পুরো নাম : বিস্তারিত...

পরাবাস্তব সিনেমার কবির গল্প

সাবিহা তমা| সংখ্যা ৪, জানুয়ারি ২০১৩

পুরো নাম : লুই বুনুয় বিস্তারিত...

ফ্ল্যাহার্টি : সেলুলয়েডের সংগ্রামী এক মানুষ

হালিমা খুশি| সংখ্যা ৩, জুলাই ২০১২

সালটি ১৮৯৫। পৃথিবী যেনো তার ইতিহাসের পাতাটি খুলে বসেছিলো কখন লিপিবদ্ধ করবে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের কথা। হ্যাঁ এই অষ্টম আশ্চর্যটি আর  কিছু নয়, চলচ্চিত্র। আর  সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি ১৯ বিস্তারিত...

চলচ্চিত্রকে পূর্ণদৈর্ঘ্য করলেন যিনি

| সংখ্যা ২, জানুয়ারি ২০১২

দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে চলচ্চিত্র। সময়ের এই পথচলায় মাঝে মাঝে কিছু লোকের সক্ষমতা গতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। তাদের উপেক্ষা করে যেমন চলচ্চিত্রের ইতিহাস রচনা চলে না, বিস্তারিত...

আইজেনস্টাইন, চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে তুমিই শ্রেষ্ঠ!

.| সংখ্যা ১, জুলাই ২০১১

স্বপ্ন বাস্তবায়নের শুরু যখন থেকে সেই তখন থেকেই শুরু হয় আমাদের চলচ্চিত্র বিষয়ক পাঠ। চলচ্চিত্রে যারা নিজেদের অবশ্য দ্রষ্টব্য করেছেন মেধা ও সৃষ্টির য বিস্তারিত...

Powered By Dhaka Web Host

Jobsmag.inIndian Education BlogThingsGuide